এমআরআই (MRI) কী ও কেন করা হয়?

Rate this post

ধরুন, আপনার ডাক্তার বলেছেন ‘এমআরআই করাতে হবে’—মনে কী ভয় বা বিভ্রান্তি আসছে? এমআরআই আসলে কী, কেন ডাক্তার এটি করতে বলেন, এবং এটি কি নিরাপদ—এসব প্রশ্নের উত্তর সহজ ভাষায় দেওয়ার জন্যই এই লেখা। প্রথমেই বলে রাখি, এমআরআই একটি অত্যাধুনিক ইমেজিং পদ্ধতি যা শরীরের ভেতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বিস্তারিত ছবি তোলে, তাতে কোনো ক্ষতিকর রেডিয়েশন নেই। এটি মূলত শক্তিশালী চুম্বক ও রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে কাজ করে, তাই একে ‘ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং’ বলা হয়। নিচের অংশগুলোতে আমরা বিস্তারিত জানব—কীভাবে কাজ করে, কখন দরকার, কী কী প্রস্তুতি নিতে হবে এবং বাংলাদেশে এর খরচ কেমন।

Table of Contents

এমআরআই কী? (কীভাবে কাজ করে)

এমআরআই-এর পুরো নাম ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং। এটি একটি বড় চুম্বক ও রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের ভেতরের অঙ্গ, টিস্যু ও হাড়ের অত্যন্ত বিস্তারিত ছবি তৈরি করে। প্রক্রিয়াটি সহজ ভাষায় বোঝাতে গেলে বলা যায়—আপনার শরীরের প্রতিটি কোষে থাকা জলীয় অংশের (পানি) প্রোটনগুলোকে চুম্বকীয় করে তোলা হয়, তারপর রেডিও তরঙ্গ দিয়ে ‘উত্তেজিত’ করে ছবি তোলা হয়। ফলে যে ছবি পাওয়া যায়, তা এক্স-রে বা সিটি স্ক্যানের চেয়ে অনেক বেশি স্পষ্ট ও নরম টিস্যু দেখানোর জন্য উপযোগী।

এমআরআই-তে কোনো আয়নাইজিং রেডিয়েশন (ক্ষতিকর বিকিরণ) নেই, তাই এটি বারবার করলেও তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকি থাকে না। এটিকে ‘নন-ইনভেসিভ’ বা অ-আক্রমণাত্মকও বলা হয়, অর্থাৎ শরীরে কোনো কাটাছেঁড়া বা সুচ ফোটানো ছাড়াই ভেতরের অবস্থা দেখা যায়।

কেন ডাক্তার এমআরআই করতে বলেন? (কোন রোগের জন্য করা হয়)

ডাক্তাররা সাধারণত তখন এমআরআই করতে বলেন, যখন এক্স-রে বা আল্ট্রাসাউন্ড দিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায় না, বিশেষ করে নরম টিস্যু (পেশি, লিগামেন্ট, মস্তিষ্ক, স্পাইনাল কর্ড) সম্পর্কিত সমস্যায়। নিচে কয়েকটি সাধারণ কারণ উল্লেখ করা হলো:

  • মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র: ব্রেন টিউমার, স্ট্রোক, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস, মস্তিষ্কের সংক্রমণ, মৃগীর কারণ নির্ণয়।
  • মেরুদণ্ড: ডিস্ক প্রল্যাপস (স্লিপড ডিস্ক), স্পাইনাল স্টেনোসিস, মেরুদণ্ডের টিউমার বা ইনফেকশন।
  • জয়েন্ট ও হাড়: হাঁটুর মেনিস্কাস বা লিগামেন্টের ছিঁড়ে যাওয়া, কাঁধের রোটেটর কাফ ইনজুরি, অস্টিওআর্থারাইটিসের মাত্রা বোঝা।
  • পেটের অঙ্গ: লিভার, কিডনি, প্যানক্রিয়াস, প্লীহার টিউমার বা সিস্ট শনাক্তকরণ।
  • পেলভিক অঙ্গ: জরায়ু, ডিম্বাশয়, প্রোস্টেটের সমস্যা (যেমন ফাইব্রয়েড, ক্যান্সার)।
  • রক্তনালী: এমআরআই অ্যাঞ্জিওগ্রাফি (MRA) দিয়ে মস্তিষ্কের রক্তনালীর ব্লক বা অ্যানিউরিজম দেখা।

মনে রাখবেন, এমআরআই সব রোগের জন্য প্রথম পছন্দ নয়—ডাক্তার রোগীর অবস্থা ও প্রয়োজন বুঝেই এই পরীক্ষার পরামর্শ দেন।

এমআরআই করার আগে করণীয় (প্রস্তুতি)

এমআরআই করানোর আগে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি, কারণ এটি শক্তিশালী চুম্বক ব্যবহার করে। নিচের বিষয়গুলো ডাক্তার ও রেডিওলজি টেকনিশিয়ানকে জানাতে হবে:

  • ধাতব ইমপ্ল্যান্ট: পেসমেকার, কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট, পুরনো মেটাল স্টেন্ট, ক্লিপ বা কৃত্রিম জয়েন্ট থাকলে জানান। কিছু ইমপ্ল্যান্ট এমআরআই-এর জন্য নিরাপদ নয়।
  • ক্লস্ট্রোফোবিয়া: যদি সীমাবদ্ধ জায়গায় ভয় হয়, তবে আগেই জানান। অনেক জায়গায় ‘ওপেন এমআরআই’ বা হালকা সিডেটিভের ব্যবস্থা থাকে।
  • গর্ভাবস্থা: গর্ভবতী বা সন্দেহ থাকলে ডাক্তারকে জানান। সাধারণত প্রথম তিন মাসে (প্রথম ট্রাইমেস্টার) এমআরআই এড়িয়ে চলা হয়, তবে জরুরি প্রয়োজন হলে ডাক্তার সিদ্ধান্ত নেন।
  • কনট্রাস্ট এজেন্ট: কিছু এমআরআই-তে ‘গ্যাডোলিনিয়াম’ নামক কনট্রাস্ট ইনজেকশন দেওয়া হয়। এর আগে অ্যালার্জি ও কিডনি ফাংশন পরীক্ষা করা দরকার।
  • খালি পেট: পেটের এমআরআই-এর জন্য সাধারণত ৪-৬ ঘণ্টা আগে থেকে না খেয়ে থাকতে বলা হয়। অন্যান্য এমআরআই-তে সাধারণত খালি পেটের প্রয়োজন নেই।
  • গয়না ও চশমা: ধাতব গয়না, চশমা, হেয়ারপিন, বেল্ট, ক্রেডিট কার্ড ইত্যাদি পরীক্ষার আগে খুলে রাখতে হবে।

এমআরআই-র ঝুঁকি ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

এমআরআই সাধারণত একটি নিরাপদ পরীক্ষা, তবে কিছু সম্ভাব্য ঝুঁকি বা অস্বস্তি থাকতে পারে:

  • কনট্রাস্ট অ্যালার্জি: গ্যাডোলিনিয়াম ইনজেকশনের কারণে কিছু রোগীর বমি বমি ভাব, মাথাব্যথা বা ত্বকে ফুসকুড়ি হতে পারে। গুরুতর অ্যালার্জি বিরল, কিন্তু কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।
  • ক্লস্ট্রোফোবিয়া: মেশিনের ভেতরে প্রায় ১৫-৪৫ মিনিট স্থির থাকতে হয়, যা কিছু লোকের জন্য অস্বস্তিকর। আগে থেকে জানালে চিকিৎসক ওষুধ বা ওপেন এমআরআই-এর ব্যবস্থা করতে পারেন।
  • ধাতব ইমপ্ল্যান্টের ঝুঁকি: পেসমেকার, কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট বা কিছু পুরনো মেটাল ইমপ্ল্যান্ট চুম্বকের প্রভাবে নড়তে পারে বা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই সবসময় স্ক্রিনিং করা হয়।
  • গর্ভাবস্থা: যদিও এমআরআই-তে রেডিয়েশন নেই, তবুও প্রথম ট্রাইমেস্টারে অপ্রয়োজনীয় এমআরআই এড়ানো হয়।

মনে রাখবেন, এমআরআই-তে কোনো এক্স-রে বা ক্ষতিকর বিকিরণ নেই, তাই এটি বারবার করলেও ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে না—এটি সিটি স্ক্যানের চেয়ে বড় সুবিধা।

এমআরআই বনাম সিটি স্ক্যান ও এক্স-রে: কখন কোনটি?

তিনটি ইমেজিং পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্য বোঝা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে আপনি বুঝতে পারেন কেন ডাক্তার একটি নির্দিষ্ট পরীক্ষা বেছে নেন। নিচের টেবিলটি দেখুন:

বৈশিষ্ট্য এমআরআই (MRI) সিটি স্ক্যান (CT Scan) এক্স-রে (X-ray)
প্রযুক্তি শক্তিশালী চুম্বক ও রেডিও তরঙ্গ এক্স-রে (আয়নাইজিং রেডিয়েশন) এক্স-রে (আয়নাইজিং রেডিয়েশন)
রেডিয়েশন নেই মাঝারি মাত্রার রেডিয়েশন কম মাত্রার রেডিয়েশন
সেরা ব্যবহার নরম টিস্যু (মস্তিষ্ক, স্পাইনাল কর্ড, জয়েন্টের লিগামেন্ট, পেশি) হাড়ের ফাটল, বুকের ভেতরের অঙ্গ (ফুসফুস, লিভার), জরুরি অবস্থা হাড়ের ফাটল, ফুসফুসের সংক্রমণ, দাঁতের সমস্যা
বিস্তারিত ছবি অত্যন্ত বিস্তারিত, বিশেষ করে নরম টিস্যুতে ভালো, কিন্তু নরম টিস্যুতে এমআরআই-এর চেয়ে কম সীমিত, শুধু হাড় ও কিছু টিস্যু
সময় ১৫-৪৫ মিনিট ৫-১৫ মিনিট সেকেন্ড
খরচ (বাংলাদেশে) অপেক্ষাকৃত বেশি (৫,০০০-১৫,০০০ টাকা) মাঝারি (২,০০০-৮,০০০ টাকা) সস্তা (২০০-১,০০০ টাকা)

সাধারণত, ডাক্তার প্রথমে এক্স-রে বা আল্ট্রাসাউন্ড দিয়ে শুরু করেন, তারপর প্রয়োজনে সিটি বা এমআরআই-এর পরামর্শ দেন। এমআরআই সবচেয়ে বিস্তারিত ছবি দেয়, কিন্তু সময় ও খরচ বেশি।

বাংলাদেশে এমআরআই করাতে খরচ কত? (আনুমানিক মূল্য)

বাংলাদেশে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এমআরআই-এর খরচ অঙ্গভেদে, কনট্রাস্ট ব্যবহারের উপর এবং প্রতিষ্ঠানের মান অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। নিচে একটি সাধারণ ধারণা দেওয়া হলো:

পরীক্ষার ধরন / অঙ্গ আনুমানিক খরচ (টাকা) মন্তব্য
মস্তিষ্কের এমআরআই (Brain MRI) ৫,০০০ – ৮,০০০ কনট্রাস্ট ছাড়া; কনট্রাস্ট সহ আরও ১,০০০-২,০০০ টাকা অতিরিক্ত
মেরুদণ্ডের এমআরআই (Spine MRI) ৬,০০০ – ১০,০০০ প্রতি অংশ (সার্ভিকাল, থোরাসিক, লাম্বার) আলাদা; পুরো স্পাইন বেশি
জয়েন্টের এমআরআই (Joint MRI – হাঁটু, কাঁধ) ৭,০০০ – ১২,০০০ একটি জয়েন্টের জন্য; দ্বিপাক্ষিক হলে দ্বিগুণ হতে পারে
পেটের এমআরআই (Abdomen MRI) ৮,০০০ – ১৫,০০০ কনট্রাস্ট সহ প্রায়ই বেশি; লিভার, কিডনি ইত্যাদি
এমআরআই অ্যাঞ্জিওগ্রাফি (MRA) ১০,০০০ – ১৫,০০০ রক্তনালী দেখতে; বিশেষায়িত

মনে রাখবেন: দামগুলো আনুমানিক এবং প্রতিষ্ঠানভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। সরকারি হাসপাতালে খরচ অনেক কম (৫০০-২,০০০ টাকা), তবে অপেক্ষার সময় বেশি। কোনো নির্দিষ্ট হাসপাতালের বর্তমান মূল্য জানতে সরাসরি যোগাযোগ করে নিন।

কখন এমআরআই না করানোই ভালো? (বিরোধীতা)

কিছু শারীরিক অবস্থা বা ডিভাইস থাকলে এমআরআই করা বিপজ্জনক হতে পারে। নিচের ক্ষেত্রে ডাক্তারকে আগেই জানানো জরুরি:

  • পেসমেকার বা ICD: অধিকাংশ পুরনো পেসমেকার এমআরআই-এর জন্য অনিরাপদ। তবে কিছু নতুন ‘এমআরআই-কন্ডিশনাল’ পেসমেকার আছে—ডাক্তার নির্ধারণ করবেন।
  • কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট: সাধারণত এমআরআই করা যায় না, কারণ চুম্বক ইমপ্ল্যান্টের ক্ষতি করতে পারে।
  • ধাতব ক্লিপ বা স্টেন্ট: মস্তিষ্কের অ্যানিউরিজম ক্লিপ, কিছু পুরনো স্টেন্ট বা ধাতব বিদেশি বস্তু (যেমন চোখে ধাতব স্প্লিন্টার) থাকলে ঝুঁকি থাকে।
  • গর্ভাবস্থার প্রথম দিক: অপ্রয়োজনীয় এমআরআই এড়ানো হয়, বিশেষ করে প্রথম তিন মাসে, যদিও প্রমাণিত ক্ষতি নেই।
  • গুরুতর ক্লস্ট্রোফোবিয়া: যদি ওপেন এমআরআই বা সিডেটিভের ব্যবস্থা না থাকে, তবে এমআরআই করা কষ্টকর হতে পারে।

এক্ষেত্রে ডাক্তার বিকল্প পরীক্ষা (যেমন সিটি স্ক্যান বা আল্ট্রাসাউন্ড) বিবেচনা করতে পারেন।

বিভাগ অনুযায়ী ডাক্তার খুঁজুন

যদি আপনার কোনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের প্রয়োজন হয় (যেমন গাইনোকলজিস্ট বা প্রসূতি বিশেষজ্ঞ, যারা এমআরআই-এর প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণে সাহায্য করতে পারেন), নিচের বিভাগ অনুযায়ী ডাক্তার খুঁজে নিন:

বিভাগ ডাক্তার খুঁজুন
ঢাকা ঢাকায় সেরা গাইনোকলজিস্ট ডাক্তার
ঢাকায় প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার খুঁজুন
চট্টগ্রাম চট্টগ্রামে জনপ্রিয় গাইনোকলজিস্ট ডাক্তার
চট্টগ্রামে জনপ্রিয় প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার
খুলনা খুলনায় জনপ্রিয় গাইনোকলজিস্ট ডাক্তার
খুলনায় প্রসূতি বিশেষজ্ঞ বিশেষজ্ঞ
রাজশাহী রাজশাহীতে জনপ্রিয় গাইনোকলজিস্ট ডাক্তার
রাজশাহীতে টপ প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার
রংপুর রংপুরে টপ গাইনোকলজিস্ট ডাক্তার
রংপুরে প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার খুঁজুন
সিলেট সিলেটে গাইনোকলজিস্ট ডাক্তার
সিলেটে জনপ্রিয় প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার
বরিশাল বরিশালে সেরা গাইনোকলজিস্ট ডাক্তার
বরিশালে ভেরিফাইড প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার
ময়মনসিংহ ময়মনসিংহে সেরা গাইনোকলজিস্ট ডাক্তার

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

এমআরআই করতে কত সময় লাগে?

সাধারণত একটি নির্দিষ্ট অঙ্গের এমআরআই করতে ১৫ থেকে ৪৫ মিনিট সময় লাগে। সময়টা নির্ভর করে শরীরের কোন অংশ স্ক্যান করা হচ্ছে এবং কতগুলো ছবি নেওয়া দরকার তার উপর। যেমন: হাঁটু বা ব্রেনের এমআরআই তুলনামূলক কম সময়ে শেষ হয়, কিন্তু পুরো মেরুদণ্ড বা পেটের এমআরআই বেশি সময় নিতে পারে। স্ক্যানের সময় আপনাকে সম্পূর্ণ স্থির থাকতে হবে, নড়াচড়া করলে ছবি ঝাপসা হতে পারে এবং পুনরায় করতে হতে পারে।

এমআরআই মেশিনে ঢোকার সময় কি ব্যথা বা অস্বস্তি হয়?

এমআরআই নিজে কোনো ব্যথাহীন পদ্ধতি, কিন্তু কিছু অস্বস্তি বা চাপ অনুভব হতে পারে। মেশিনের ভেতরে জায়গা সংকীর্ণ, তাই অনেকের ক্লস্ট্রোফোবিয়া (ছোট জায়গায় ভয়) লাগতে পারে। মেশিন থেকে জোরে ‘টিক-টিক’, ‘গুড়গুড়’ বা ‘ঠকঠক’ শব্দ আসে, যা কিছু ক্ষেত্রে বিরক্তিকর হতে পারে। তবে আপনি চাইলে ইয়ারপ্লাগ বা হেডফোন ব্যবহার করতে পারেন। স্ক্যানের সময় মেশিনের ভেতরে আপনার শরীরের উষ্ণতা কিছুটা বাড়তে পারে, এটি স্বাভাবিক। কোনো ব্যথা বা অস্বাভাবিক অনুভূতি হলে সঙ্গে সঙ্গেই টেকনিশিয়ানকে জানানোর ব্যবস্থা থাকে।

এমআরআই করার পর কি কোনো বিশেষ সতর্কতা বা যত্ন নিতে হয়?

এমআরআই সম্পন্ন হওয়ার পর সাধারণত কোনো বিশেষ যত্নের প্রয়োজন নেই। আপনি স্বাভাবিক কাজকর্মে ফিরে যেতে পারেন। যদি কনট্রাস্ট (বিশেষ রঞ্জক) ইনজেকশন দেওয়া হয়ে থাকে, তবে অধিক পানি পান করা ভালো, কারণ এটি শরীর থেকে দ্রুত বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। খুব বিরল ক্ষেত্রে কনট্রাস্টের প্রতি অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে—যদি স্ক্যানের পর ফুসকুড়ি, শ্বাসকষ্ট বা চুলকানি হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আর ফলোআপের জন্য রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর আপনার ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।

ক্লস্ট্রোফোবিয়া বা ছোট জায়গায় ভয় থাকলে কি এমআরআই করা সম্ভব?

হ্যাঁ, সম্ভব। আপনার ক্লস্ট্রোফোবিয়া থাকলে স্ক্যানের আগে রেডিওলজি টিমকে জানিয়ে রাখুন। তারা ‘ওপেন এমআরআই’ মেশিনের ব্যবস্থা করতে পারেন, যা কিছুটা খোলা এবং কম সংকীর্ণ। অথবা প্রি-স্ক্যানে চিকিৎসক হালকা প্রশান্তিকারক ওষুধ (সেডেটিভ) দিতে পারেন, যাতে আপনি স্ক্যানের সময় আরাম বোধ করেন। অনেক বড় হাসপাতালে মিরর বা হেডফোনের মাধ্যমে আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করার সুযোগ আছে। তবে সেডেটিভ ব্যবহার করলে আপনার স্ক্যানের পরে কাউকে সঙ্গে রেখে বাড়ি ফিরতে হতে পারে। তাই আগে থেকেই বিষয়টি ডাক্তার বা হাসপাতালের সাথে আলোচনা করে নিন।

এমআরআই রিপোর্ট পেতে কতদিন লাগে এবং ডাক্তার কখন ফলোআপে ডাকবেন?

বাংলাদেশের বেশিরভাগ হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এমআরআই রিপোর্ট সাধারণত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পাওয়া যায়। তবে জরুরি ক্ষেত্রে কিছু সেন্টার ২-৪ ঘণ্টার মধ্যেও রিপোর্ট দিয়ে থাকে। রিপোর্ট দেওয়ার পর আপনার রেফারিং ডাক্তার বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সাথে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে ফলোআপ করতে হবে। সাধারণত ডাক্তার রিপোর্ট দেখে পরবর্তী চিকিৎসা বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা পরামর্শ দেন। নিজে রিপোর্ট বুঝে চিকিৎসা শুরু করা বা সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। রিপোর্ট পাওয়ার জন্য হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগে আগেই জেনে নিন।

সারকথা

এমআরআই একটি শক্তিশালী ও নিরাপদ ডায়াগনস্টিক টুল, যা শরীরের ভেতরের জটিল সমস্যা চিহ্নিত করতে ডাক্তারদের অমূল্য সাহায্য করে। তবে এটি কোনো প্রতিরোধমূলক পরীক্ষা নয়—শুধুমাত্র চিকিৎসকের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী করানো উচিত। পরীক্ষার আগে সব সতর্কতা মেনে চলুন এবং আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে ডাক্তারকে খুলে বলুন। আশা করি, এই গাইডটি এমআরআই সম্পর্কে আপনার ভয় দূর করতে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।

তথ্যসূত্র

উপরের তথ্যসূত্রগুলো আন্তর্জাতিক জার্নাল, সরকারি স্বাস্থ্য সংস্থা বা স্বীকৃত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া: