অ্যান্টিস্ট্রেপ্টোলাইসিন ও (এএসও) টেস্ট

Rate this post

আপনার বা আপনার সন্তানের কি বারবার গলাব্যথা হয়? ডাক্তার ASO টেস্টের পরামর্শ দিয়েছেন? তাহলে জেনে নিন এই পরীক্ষাটি কী, কেন করা হয় এবং ফলাফল কীভাবে বুঝবেন। অনেকেই মনে করেন ASO পজিটিভ মানেই বাতজ্বর, কিন্তু ব্যাপারটি এত সরল নয়। এই নিবন্ধে আমরা অ্যান্টিস্ট্রেপ্টোলাইসিন ও (এএসও) টেস্ট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব, যাতে আপনি সঠিকভাবে বুঝতে পারেন এবং চিকিৎসকের সঙ্গে কার্যকরভাবে কথা বলতে পারেন।

এএসও টেস্ট কী এবং কেন করা হয়?

অ্যান্টিস্ট্রেপ্টোলাইসিন ও (ASO) টেস্ট একটি রক্তপরীক্ষা। এটি শরীরে স্ট্রেপ্টোকক্কাস (Streptococcus) নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে তৈরি অ্যান্টিবডির মাত্রা পরিমাপ করে। এই ব্যাকটেরিয়াটি সাধারণত গলায় সংক্রমণ ঘটায়, যাকে আমরা স্ট্রেপ থ্রোট (streptococcal pharyngitis) বলি।

ASO টেস্ট করা হয় মূলত স্ট্রেপ থ্রোটের পরবর্তী জটিলতা শনাক্ত করতে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি জটিলতা হলো:

  • রিউম্যাটিক ফিভার (বাতজ্বর): এটি একটি প্রদাহজনক রোগ যা জয়েন্ট, হৃদপিণ্ড, ত্বক এবং মস্তিষ্ককে প্রভাবিত করতে পারে।
  • পোস্ট-স্ট্রেপ্টোকক্কাল গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস (পিএসজিএন): এটি কিডনির প্রদাহ, যা প্রস্রাবে রক্ত ও ফোলাভাব সৃষ্টি করতে পারে।

সাধারণত, গলাব্যথা শুরু হওয়ার ১-৩ সপ্তাহ পরে ASO টাইটার (অ্যান্টিবডির মাত্রা) বাড়তে শুরু করে এবং ৩-৬ সপ্তাহে সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছে। তাই এই টেস্টটি তীব্র সংক্রমণ নয়, বরং পূর্ববর্তী সংক্রমণের ইঙ্গিত দেয়।

পরীক্ষার আগে কী করবেন? (প্রস্তুতি)

ASO টেস্টের জন্য কোনো বিশেষ প্রস্তুতির প্রয়োজন নেই। রোজা রাখার প্রয়োজন হয় না। তবে, আপনি যদি কোনো ওষুধ সেবন করেন, বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক বা ইমিউনোসাপ্রেসেন্ট, তাহলে রক্ত নেওয়ার আগে ডাক্তারকে জানিয়ে দিন। কিছু ওষুধ ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে।

পরীক্ষাটি একটি সাধারণ রক্তপরীক্ষার মতোই। ল্যাব টেকনিশিয়ান আপনার হাতের শিরা থেকে অল্প পরিমাণ রক্ত নেবেন। পুরো প্রক্রিয়াটি মাত্র কয়েক মিনিট সময় নেয়।

এএসও টেস্টের স্বাভাবিক মান ও ফলাফল ব্যাখ্যা

ASO টেস্টের ফলাফল সাধারণত টাইটার (titer) আকারে দেওয়া হয়, যা IU/mL (আন্তর্জাতিক একক/মিলিলিটার) এককে প্রকাশিত হয়। স্বাভাবিক মান ল্যাবভেদে কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে, তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সাধারণত ২০০ IU/mL-এর কম স্বাভাবিক ধরা হয়।

ফলাফল ব্যাখ্যা:

  • নেগেটিভ (স্বাভাবিক): টাইটার ২০০ IU/mL-এর নিচে থাকলে এটি সাধারণত স্বাভাবিক। এর অর্থ সম্প্রতি কোনো স্ট্রেপ্টোকক্কাস সংক্রমণ হয়নি বা অ্যান্টিবডির মাত্রা কমে গেছে।
  • পজিটিভ (উচ্চ): টাইটার ২০০ IU/mL-এর বেশি হলে এটি পূর্ববর্তী স্ট্রেপ সংক্রমণের ইঙ্গিত দেয়। তবে মনে রাখবেন, পজিটিভ ফলাফল মানেই সক্রিয় রোগ নয়। অনেক সুস্থ মানুষের মধ্যেও কম মাত্রায় অ্যান্টিবডি থাকতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা: একা ASO টেস্টের ফলাফল দিয়ে কোনো রোগ নির্ণয় করা যায় না। চিকিৎসক ক্লিনিক্যাল উপসর্গ (যেমন জ্বর, জয়েন্টে ব্যথা, হৃদপিণ্ডের সমস্যা), অন্যান্য পরীক্ষা (যেমন ESR, CRP, ECG) এবং রোগীর ইতিহাস দেখে সম্পূর্ণ মূল্যায়ন করেন।

এএসও টেস্টের সীমাবদ্ধতা ও ভুল ধারণা

ASO টেস্ট নিয়ে বাংলাদেশে বেশ কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত। সবচেয়ে সাধারণ ভুল ধারণাটি হলো: ASO পজিটিভ মানেই রিউম্যাটিক ফিভার (বাতজ্বর)। এটি সঠিক নয়।

সীমাবদ্ধতা:

  • ASO টেস্ট শুধু পূর্ববর্তী সংক্রমণের ইঙ্গিত দেয়, বর্তমান সক্রিয় সংক্রমণের নয়।
  • অনেক সুস্থ মানুষের মধ্যে কম মাত্রায় ASO অ্যান্টিবডি থাকতে পারে।
  • স্ট্রেপ্টোকক্কাস সংক্রমণের পর সব ক্ষেত্রেই জটিলতা তৈরি হয় না।
  • কিছু ক্ষেত্রে (যেমন ত্বকের সংক্রমণ) ASO টাইটার তেমন বাড়ে না, সেক্ষেত্রে অন্যান্য টেস্ট (যেমন Anti-DNase B) প্রয়োজন হতে পারে।

তাই, ASO পজিটিভ হলেই আতঙ্কিত না হয়ে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তিনিই আপনার সম্পূর্ণ অবস্থা বুঝে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

বাংলাদেশে এএসও টেস্টের খরচ ও কোথায় করাবেন?

বাংলাদেশে ASO টেস্ট সহজলভ্য এবং তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী। অধিকাংশ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বেসরকারি হাসপাতাল এবং সরকারি হাসপাতালে এই পরীক্ষাটি করা হয়। নিচে আনুমানিক খরচের একটি ধারণা দেওয়া হলো:

বাংলাদেশে ASO টেস্টের আনুমানিক খরচ
আইটেম আনুমানিক ব্যয় (বিডিটি) মন্তব্য
প্রাইভেট ল্যাবে ASO টেস্ট ২০০ – ৫০০ টাকা ল্যাবের মান ও অবস্থানভেদে দাম পরিবর্তিত হয়।
সরকারি হাসপাতালে ASO টেস্ট ১০০ – ১৫০ টাকা সরকারি হাসপাতালে সাধারণত কম খরচ হয়, তবে সময় বেশি লাগতে পারে।
প্যাকেজে (যেমন রিউম্যাটিক প্রোফাইল) ৫০০ – ১,২০০ টাকা এই প্যাকেজে ASO, ESR, CRP, RA Factor ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত থাকে।

মনে রাখবেন: দাম পরিবর্তনশীল। টেস্ট করানোর আগে সংশ্লিষ্ট ল্যাব বা হাসপাতালে যোগাযোগ করে বর্তমান মূল্য জেনে নিন।

বিভাগ অনুযায়ী ডাক্তার খুঁজুন

ASO টেস্টের ফলাফল বুঝতে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। নিচের টেবিলে আপনার বিভাগ অনুযায়ী রিউমাটোলজিস্ট বা মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার খুঁজে নিন:

বিভাগ ডাক্তার খুঁজুন
ঢাকা ঢাকায় রিউমাটোলজিস্ট বিশেষজ্ঞ
চট্টগ্রাম চট্টগ্রামে রিউমাটোলজিস্ট ডাক্তার
খুলনা খুলনায় টপ রিউমাটোলজিস্ট ডাক্তার
রাজশাহী রাজশাহীতে রিউমাটোলজিস্ট ডাক্তার
রংপুর রংপুরে রিউমাটোলজিস্ট ডাক্তার
সিলেট সিলেটে রিউমাটোলজিস্ট ডাক্তার খুঁজুন
বরিশাল বরিশালে রিউমাটোলজিস্ট ডাক্তার খুঁজুন
ময়মনসিংহ ময়মনসিংহে টপ রিউমাটোলজিস্ট ডাক্তার
ঢাকা ঢাকায় মেডিসিন বিশেষজ্ঞ
চট্টগ্রাম চট্টগ্রামে টপ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার
খুলনা খুলনায় মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার খুঁজুন
রাজশাহী রাজশাহীতে ভেরিফাইড মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার
রংপুর রংপুরে ভেরিফাইড মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার
সিলেট সিলেটে ভেরিফাইড মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার
বরিশাল বরিশালে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

ফলাফলের পরবর্তী করণীয়

যদি আপনার ASO টেস্টের ফলাফল অস্বাভাবিক (পজিটিভ) আসে, তাহলে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করুন:

  1. আতঙ্কিত হবেন না: মনে রাখবেন, পজিটিভ ফলাফল মানেই যে আপনার সক্রিয় রোগ আছে তা নয়।
  2. চিকিৎসকের পরামর্শ নিন: একজন রিউমাটোলজিস্ট বা মেডিসিন বিশেষজ্ঞের কাছে যান। তিনি আপনার উপসর্গ, শারীরিক পরীক্ষা এবং অন্যান্য পরীক্ষার ফলাফল দেখে সম্পূর্ণ মূল্যায়ন করবেন।
  3. প্রয়োজনীয় অন্যান্য পরীক্ষা করান: চিকিৎসক ESR, CRP, ইসিজি (ECG), ইকোকার্ডিওগ্রাম (Echocardiogram) বা ইউরিন টেস্টের মতো পরীক্ষাগুলোর পরামর্শ দিতে পারেন।
  4. চিকিৎসা শুরু করুন: যদি রিউম্যাটিক ফিভার বা অন্য কোনো জটিলতা ধরা পড়ে, তবে চিকিৎসকের নির্দেশিত ওষুধ (যেমন অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগ) নিয়মিত সেবন করুন।
  5. নিজে থেকে ওষুধ খাবেন না বা বন্ধ করবেন না: কখনোই নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য কোনো ওষুধ খাওয়া শুরু বা বন্ধ করবেন না। এটি বিপজ্জনক হতে পারে।

মনে রাখবেন, ASO টেস্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ডায়াগনস্টিক টুল, তবে এটি চিকিৎসকের সামগ্রিক মূল্যায়নের একটি অংশ মাত্র। সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য পেশাদার চিকিৎসকের পরামর্শ অপরিহার্য।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

এএসও টেস্ট পজিটিভ মানেই কি বাতজ্বর হয়েছে?

না, এএসও পজিটিভ মানেই বাতজ্বর নয়। এটি শুধু ইঙ্গিত দেয় যে শরীরে স্ট্রেপ্টোকক্কাস ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হয়েছে। অনেকের ক্ষেত্রে এটি কোনো জটিলতা ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে সেরে যায়। বাতজ্বর নির্ণয় করতে চিকিৎসক অন্যান্য লক্ষণ (যেমন জ্বর, জয়েন্টে ব্যথা, চামড়ায় র্যাশ) এবং ইসিজি বা ইকোকার্ডিওগ্রামের মতো পরীক্ষাও বিবেচনা করেন। তাই শুধু এএসও পজিটিভ দেখে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

গলাব্যথা শুরু হওয়ার কত দিন পর এএসও টেস্ট করানো উচিত?

সাধারণত গলাব্যথা বা স্ট্রেপ সংক্রমণের ১ থেকে ২ সপ্তাহ পর এএসও অ্যান্টিবডি তৈরি হতে শুরু করে এবং ৩ থেকে ৬ সপ্তাহে সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছায়। তাই সংক্রমণের প্রথম সপ্তাহে টেস্ট করলে ফলাফল নেতিবাচক আসতে পারে। চিকিৎসক সাধারণত সংক্রমণের ২ সপ্তাহ পর টেস্টের পরামর্শ দেন। তবে জরুরি অবস্থায় আগেও করানো যেতে পারে, কিন্তু ফলাফল ব্যাখ্যার সময় এই সময়কাল বিবেচনায় নিতে হবে।

একবার এএসও পজিটিভ হলে তা কতদিন পর্যন্ত পজিটিভ থাকে?

এএসও অ্যান্টিবডি সংক্রমণের পর কয়েক মাস পর্যন্ত শরীরে থাকতে পারে। সাধারণত ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে মাত্রা কমে স্বাভাবিক হয়, তবে কারও কারও ক্ষেত্রে এক বছর পর্যন্তও থাকতে পারে। তাই বারবার টেস্ট না করিয়ে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ফলো-আপ করাই ভালো। একবার পজিটিভ হওয়ার পর আবার টেস্ট করলে তা আগের সংক্রমণের কারণেও পজিটিভ আসতে পারে, যা বিভ্রান্তিকর হতে পারে।

এএসও টেস্ট নেগেটিভ হলেও কি বাতজ্বর হতে পারে?

হ্যাঁ, সম্ভবনা আছে। এএসও টেস্ট শুধু স্ট্রেপ্টোকক্কাসের একটি নির্দিষ্ট এনজাইমের (স্ট্রেপ্টোলাইসিন ও) বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি মাপে। কিন্তু অন্যান্য স্ট্রেপ এনজাইমের (যেমন ডিএনএজ বি, হায়ালুরোনিডেস) বিরুদ্ধেও অ্যান্টিবডি তৈরি হতে পারে, যা এএসও টেস্টে ধরা পড়ে না। তাই বাতজ্বরের সন্দেহ থাকলে চিকিৎসক অন্যান্য অ্যান্টিবডি টেস্ট (যেমন অ্যান্টি-ডিএনএজ বি) বা ক্লিনিকাল লক্ষণ দেখে রোগ নির্ণয় করেন। নেগেটিভ এএসও বাতজ্বর পুরোপুরি বাতিল করে না।

বাংলাদেশে এএসও টেস্টের ফলাফল পেতে কত সময় লাগে?

বেশিরভাগ সরকারি ও বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এএসও টেস্টের ফলাফল সাধারণত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পাওয়া যায়। তবে কিছু জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের ল্যাবে সময় বেশি লাগতে পারে। ফলাফল দ্রুত জানতে চাইলে বড় শহরের স্বীকৃত ল্যাব বা হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে করানো ভালো। ফলাফলের রিপোর্টে সাধারণত টাইটার (যেমন ২০০ IU/mL) উল্লেখ থাকে, যা চিকিৎসক ব্যাখ্যা করবেন।

সারকথা

ASO টেস্ট স্ট্রেপ্টোকক্কাস সংক্রমণের পরবর্তী জটিলতা যেমন বাতজ্বর ও কিডনি প্রদাহ শনাক্তে একটি কার্যকরী ও সাশ্রয়ী পরীক্ষা। তবে এর ফলাফল সবসময় ক্লিনিক্যাল প্রেক্ষাপটে বুঝতে হবে। একটি পজিটিভ ফলাফল আপনাকে আতঙ্কিত না করে সতর্ক করবে এবং চিকিৎসকের কাছে যেতে উৎসাহিত করবে। মনে রাখবেন, সময়মতো সঠিক চিকিৎসা এই জটিলতাগুলোর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কমাতে পারে।

মনে রাখবেন: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র শিক্ষামূলক; কোনো রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প নয়।

তথ্যসূত্র

উপরের তথ্যসূত্রগুলো আন্তর্জাতিক জার্নাল, সরকারি স্বাস্থ্য সংস্থা বা স্বীকৃত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া: