রক্তরোগে হাড়ে ব্যথার কারণ কী?

Rate this post

হাড়ের ব্যথা একটি সাধারণ উপসর্গ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি পেশির টান, অস্টিওআর্থারাইটিস, ভিটামিন ডি-এর অভাব বা আঘাতের কারণে হয়। তবে কিছু রক্তরোগও হাড়ে ব্যথার কারণ হতে পারে—বিশেষ করে যখন অস্থিমজ্জা বা হাড়ের টিস্যু সরাসরি আক্রান্ত হয়। এই নিবন্ধে আমরা রক্তরোগ ও হাড়ের ব্যথার মধ্যে জৈবিক সংযোগ, বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিক রক্তরোগগুলো এবং কখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে তা নিয়ে আলোচনা করব। মনে রাখবেন, শুধু হাড়ের ব্যথা মানেই রক্তরোগ নয়; সঠিক নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।

রক্তরোগ ও হাড়ের ব্যথার মধ্যে সম্পর্ক কী?

আমাদের শরীরের অস্থিমজ্জা (bone marrow) হলো রক্তকোষ তৈরির কারখানা। লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা ও অণুচক্রিকা সবই অস্থিমজ্জায় উৎপন্ন হয়। যখন কোনো রক্তরোগ (যেমন লিউকেমিয়া, মাল্টিপল মায়েলোমা) অস্থিমজ্জাকে আক্রমণ করে, তখন মজ্জার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং হাড়ের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। এছাড়া কিছু প্রক্রিয়ায় হাড়ের টিস্যু সরাসরি ধ্বংস হয় বা রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে হাড়ের কোষ মারা যায় (ইনফার্কশন)। ফলে হাড়ে ব্যথা অনুভূত হয়।

ব্যথা সৃষ্টির মূল প্রক্রিয়াগুলো হলো:

  • অস্থিমজ্জায় অস্বাভাবিক কোষের বৃদ্ধি (ইনফিলট্রেশন): ক্যান্সার কোষ বা অস্বাভাবিক কোষ মজ্জার ভেতর জায়গা দখল করে, ফলে মজ্জার ভেতরে চাপ বেড়ে যায় এবং হাড়ের আবরণী (পেরিওস্টিয়াম) স্নায়ুতে চাপ পড়ে ব্যথা হয়।
  • হাড়ের টিস্যু ধ্বংস (অস্টিওলাইটিক লেজিয়ন): মাল্টিপল মায়েলোমায় ক্যান্সার কোষ এমন কিছু পদার্থ নিঃসরণ করে যা হাড় ভাঙার কোষ (অস্টিওক্লাস্ট) সক্রিয় করে, ফলে হাড়ের গঠন ধ্বংস হয় এবং দুর্বল হয়ে যায়। এতে পিঠ, পাঁজর ও পেলভিসে ব্যথা হয়।
  • অস্থি ইনফার্কশন ও অ্যাভাসকুলার নেক্রোসিস: সিকেল সেল ডিজিজে অস্বাভাবিক লোহিত কণিকা রক্তনালী আটকে দেয়, বিশেষ করে হাড়ের ছোট রক্তনালীতে। ফলে হাড়ের নির্দিষ্ট অংশে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে কোষ মারা যায় (নেক্রোসিস) এবং তীব্র ব্যথা হয়।
  • অস্থিমজ্জার অতিসক্রিয়তা: থ্যালাসেমিয়ার মতো রোগে অস্থিমজ্জা অতিরিক্ত রক্তকোষ তৈরি করতে গিয়ে হাড়ের গঠন পরিবর্তন করে ফেলে, বিশেষ করে মুখের হাড় ও লম্বা হাড়ে। এতে ব্যথা ও বিকৃতি দেখা দিতে পারে।

কোন রক্তরোগে হাড়ে ব্যথা হতে পারে?

বাংলাদেশে কিছু রক্তরোগ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায় এবং এগুলোর অন্যতম উপসর্গ হতে পারে হাড়ের ব্যথা। নিচের টেবিলে বিভিন্ন রক্তরোগে ব্যথার বৈশিষ্ট্য ও অন্যান্য উপসর্গ তুলে ধরা হলো। মনে রাখবেন, এই তালিকা শুধু তথ্যের জন্য; নিজে নির্ণয় করবেন না।

রক্তরোগ ব্যথার সাধারণ স্থান ব্যথার ধরন অন্যান্য উপসর্গ
লিউকেমিয়া (বিশেষত তীব্র লিম্ফোব্লাস্টিক লিউকেমিয়া) হাত-পায়ের লম্বা হাড়, জয়েন্ট, পিঠ গভীর, স্থির, ক্রমশ বাড়ে; রাতে বেশি হয় জ্বর, ক্লান্তি, রক্তশূন্যতা, সহজে রক্তপাত/কালশিটে, ওজন হ্রাস
মাল্টিপল মায়েলোমা পিঠ (কোমর), পাঁজর, পেলভিস, মাথার খুলি তীব্র, হাড় ভাঙার ঝুঁকি; নড়াচড়ায় বাড়ে ক্লান্তি, রক্তশূন্যতা, বারবার সংক্রমণ, কিডনি সমস্যা, রক্তে ক্যালসিয়াম বেড়ে যাওয়া
সিকেল সেল ডিজিজ হাত-পায়ের হাড়, পিঠ, বুক তীব্র সংকট আকারে (ক্রাইসিস); ফোলা ও লালভাব থাকতে পারে জন্ডিস, রক্তশূন্যতা, পেটে ব্যথা, বারবার সংক্রমণ, স্ট্রোকের ঝুঁকি
থ্যালাসেমিয়া (মেজর বা ইন্টারমিডিয়া) মুখের হাড়, লম্বা হাড়, পিঠ মৃদু থেকে মাঝারি; হাড়ের বিকৃতি (মুখের হাড় ফুলে যাওয়া) থাকতে পারে রক্তশূন্যতা, ক্লান্তি, বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়া, ত্বক ফ্যাকাশে
লিম্ফোমা (কিছু ধরন) পিঠ, পেলভিস, পাঁজর স্থির, গভীর; লিম্ফ নোড ফোলা থাকলে সেখানেও ব্যথা জ্বর, রাতের ঘাম, ওজন হ্রাস, লিম্ফ নোড ফোলা

উল্লেখ্য, উপরের প্রতিটি রোগের চিকিৎসা ভিন্ন এবং শুধুমাত্র চিকিৎসকই সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা দিতে পারেন।

রক্তরোগের কারণে হাড়ের ব্যথা চেনার উপায়

শুধু হাড়ের ব্যথা দেখে রক্তরোগ বোঝা সম্ভব নয়। তবে কিছু সতর্কীকরণ লক্ষণ আছে যা রক্তরোগের দিকে ইঙ্গিত করতে পারে। এগুলো থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত:

  • ব্যথার ধরন: গভীর, স্থির, ক্রমশ বাড়তে থাকা ব্যথা; বিশেষ করে রাতে বা বিশ্রামের সময় ব্যথা বাড়লে সন্দেহ করা উচিত। সাধারণ ব্যথানাশকে কমে না।
  • ব্যথার স্থান: পিঠের নিচের দিকে (কোমর), পাঁজর, পেলভিস, মাথার খুলি, অথবা হাত-পায়ের লম্বা হাড়ের মাঝামাঝি অংশে ব্যথা বেশি দেখা যায়। জয়েন্টের ব্যথাও হতে পারে।
  • সাথে থাকা উপসর্গ: অকারণ জ্বর, রাতের ঘাম, ওজন হ্রাস, চরম ক্লান্তি, ফ্যাকাশে ভাব (রক্তশূন্যতা), সহজে রক্তপাত বা কালশিটে পড়া, বারবার সংক্রমণ—এসব উপসর্গ থাকলে রক্তরোগের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
  • বয়স ও পারিবারিক ইতিহাস: শিশু বা তরুণ বয়সে হাড়ের ব্যথা ও জ্বর থাকলে লিউকেমিয়া সন্দেহ হতে পারে। পারিবারিকভাবে সিকেল সেল বা থ্যালাসেমিয়া থাকলে সেটাও বিবেচনায় নিতে হবে।

তবে মনে রাখবেন, হাড়ের ব্যথার অনেক সাধারণ কারণ আছে (যেমন অস্টিওপোরোসিস, ভিটামিন ডি অভাব, আর্থ্রাইটিস, সংক্রমণ)। তাই উপরের লক্ষণগুলো থাকলেই যে রক্তরোগ হবে, তা নয়—তবে অবহেলা না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

রোগ নির্ণয়ের ধাপ

রক্তরোগের কারণে হাড়ের ব্যথা হচ্ছে কিনা তা নির্ণয় করতে চিকিৎসক ধাপে ধাপে পরীক্ষা করেন। সাধারণত নিচের ক্রম অনুসরণ করা হয়:

  1. ইতিহাস ও শারীরিক পরীক্ষা: ব্যথার স্থান, ধরন, সময়, অন্যান্য উপসর্গ, পারিবারিক ইতিহাস ইত্যাদি জিজ্ঞাসা করেন।
  2. রক্তের পূর্ণ গণনা (CBC) ও পেরিফেরাল স্মিয়ার: রক্তশূন্যতা, অস্বাভাবিক শ্বেত কণিকা বা অণুচক্রিকা দেখতে পাওয়া যায়। লিউকেমিয়ায় ব্লাস্ট কোষ দেখা যেতে পারে।
  3. প্রদাহ ও অন্যান্য মার্কার: ESR, CRP, সিরাম ক্যালসিয়াম, ল্যাকটেট ডিহাইড্রোজেনেজ (LDH) ইত্যাদি পরীক্ষা করা হয়।
  4. ইমেজিং: এক্স-রে, এমআরআই বা সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে হাড়ের ক্ষত (লেজিয়ন), ফাটল বা ইনফার্কশনের এলাকা দেখা যায়। মাল্টিপল মায়েলোমায় এক্স-রে-তে ‘পাঞ্চ-আউট’ লেজিয়ন দেখা যায়।
  5. বিশেষায়িত রক্ত পরীক্ষা: সিরাম প্রোটিন ইলেক্ট্রোফোরেসিস (মায়েলোমার জন্য), হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফোরেসিস (সিকেল সেল ও থ্যালাসেমিয়ার জন্য) করা হয়।
  6. অস্থিমজ্জা বায়োপসি ও অ্যাসপিরেশন: এটি সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা। পেলভিসের হাড় থেকে সুই দিয়ে অস্থিমজ্জার নমুনা নিয়ে মাইক্রোস্কোপে দেখা হয়। লিউকেমিয়া, মায়েলোমা ও লিম্ফোমার নিশ্চিত নির্ণয় এভাবেই হয়।

শুধুমাত্র চিকিৎসকই পরীক্ষাগুলোর ফলাফল বিশ্লেষণ করে সঠিক রোগ নির্ণয় করতে পারেন। নিজে থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

হাড়ের ব্যথা খুব সাধারণ একটি সমস্যা, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। নিচের শর্তগুলো থাকলে অবশ্যই একজন চিকিৎসক (প্রথমে পারিবারিক চিকিৎসক বা মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, পরে প্রয়োজনে হেমাটোলজিস্ট) দেখান:

  • হাড়ের ব্যথা কয়েক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হচ্ছে এবং ক্রমশ বাড়ছে।
  • ব্যথা রাতে ঘুম ভাঙিয়ে দিচ্ছে বা বিশ্রামে কমছে না।
  • ব্যথার সাথে জ্বর, অকারণ ওজন হ্রাস, রাতের ঘাম, চরম ক্লান্তি বা রক্তশূন্যতার লক্ষণ (ফ্যাকাশে ভাব, দুর্বলতা) আছে।
  • সহজে রক্তপাত বা কালশিটে পড়ছে, অথবা বারবার সংক্রমণ হচ্ছে।
  • পারিবারিকভাবে থ্যালাসেমিয়া বা সিকেল সেল ডিজিজের ইতিহাস আছে এবং হাড়ের ব্যথা দেখা দিয়েছে।
  • ব্যথার কারণে হাঁটাচলা বা দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রথমে আপনি আপনার নিকটস্থ সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে যেতে পারেন। প্রাথমিক পরীক্ষার পর যদি রক্তরোগ সন্দেহ হয়, তাহলে চিকিৎসক আপনাকে হেমাটোলজিস্টের কাছে রেফার করবেন। দেরি না করাই ভালো, কারণ অনেক রক্তরোগ প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে চিকিৎসা বেশি কার্যকর হয়।

বিভাগ অনুযায়ী ডাক্তার খুঁজুন

আপনার এলাকায় রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ (হেমাটোলজিস্ট) খুঁজতে নিচের টেবিল থেকে আপনার বিভাগ নির্বাচন করুন।

বিভাগ ডাক্তার খুঁজুন
ঢাকা ঢাকায় সেরা রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার
চট্টগ্রাম চট্টগ্রামে জনপ্রিয় রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার
খুলনা খুলনায় ভেরিফাইড রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার
রাজশাহী রাজশাহীতে রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার
রংপুর রংপুরে রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার
সিলেট সিলেটে রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ বিশেষজ্ঞ
বরিশাল বরিশালে রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার খুঁজুন
ময়মনসিংহ ময়মনসিংহে সেরা রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

হাড়ের ব্যথা মানেই কি রক্তরোগ?

না, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হাড়ের ব্যথা রক্তরোগের কারণে হয় না। সাধারণত পেশির টান, অস্টিওআর্থারাইটিস, ভিটামিন ডি-এর অভাব বা আঘাতের জন্যই হাড়ে ব্যথা হয়। রক্তরোগের কারণে হাড়ের ব্যথা তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায় এবং সাধারণত এর সঙ্গে আরও কিছু উপসর্গ থাকে, যেমন দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, জ্বর, রক্তাল্পতা বা সহজে রক্তপাত। তাই হাড়ের ব্যথা হলেই রক্তরোগ ভেবে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

রক্তরোগের কারণে হাড়ের ব্যথা সাধারণত শরীরের কোন জায়গায় বেশি হয়?

রক্তরোগের ধরনের ওপর নির্ভর করে ব্যথার স্থান ভিন্ন হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, মাল্টিপল মায়েলোমায় পাঁজর, মেরুদণ্ড ও পেলভিসে ব্যথা বেশি দেখা যায়। লিউকেমিয়ায় লম্বা হাড় (যেমন উরু ও বাহুর হাড়) এবং জয়েন্টের আশপাশে ব্যথা হতে পারে। থ্যালাসেমিয়ার মতো জিনগত রক্তরোগে মুখের হাড় ও লম্বা হাড়ের বিকৃতি ও ব্যথা দেখা দিতে পারে। তবে শুধু ব্যথার অবস্থান দেখে রোগ নির্ণয় করা যায় না; প্রয়োজন অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা।

রক্তরোগের চিকিৎসা নিলে কি হাড়ের ব্যথা পুরোপুরি কমে যায়?

অনেক ক্ষেত্রেই রক্তরোগের সঠিক চিকিৎসা (যেমন কেমোথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি বা স্টেম সেল ট্রান্সপ্ল্যান্ট) হাড়ের ব্যথা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে। তবে কিছু রোগে (যেমন মাল্টিপল মায়েলোমায় হাড়ের ক্ষয়) ব্যথা পুরোপুরি না-ও কমতে পারে। সে ক্ষেত্রে ব্যথা নিয়ন্ত্রণের জন্য আলাদা চিকিৎসা (যেমন ব্যথানাশক, রেডিয়েশন থেরাপি বা হাড় মজবুত করার ওষুধ) প্রয়োজন হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলা জরুরি।

হাড়ের ব্যথার পাশাপাশি আর কী কী লক্ষণ দেখলে রক্তরোগ সন্দেহ করবেন?

যদি হাড়ের ব্যথার সঙ্গে নিচের কোনো একটি বা একাধিক উপসর্গ থাকে, তাহলে রক্তরোগের সম্ভাবনা বিবেচনা করা উচিত: দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি ও দুর্বলতা, বারবার জ্বর বা সংক্রমণ, সহজে রক্তপাত বা ক্ষত, রক্তাল্পতা (ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া), রাতে ঘাম হওয়া, ওজন কমে যাওয়া, লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া। তবে শুধু উপসর্গ দেখে রোগ নির্ণয় করা যায় না; রক্ত পরীক্ষা ও অন্যান্য ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে কোন রক্তরোগ বেশি দেখা যায় যা হাড়ে ব্যথা করতে পারে?

বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়া (বিশেষ করে বিটা-থ্যালাসেমিয়া মেজর ও ইন্টারমিডিয়া) একটি সাধারণ জিনগত রক্তরোগ, যাতে হাড়ের ব্যথা ও বিকৃতি হতে পারে। এছাড়া লিউকেমিয়া (বিশেষ করে অ্যাকিউট লিম্ফোব্লাস্টিক লিউকেমিয়া শিশুদের মধ্যে) এবং মাল্টিপল মায়েলোমা (বয়স্কদের মধ্যে) হাড়ের ব্যথার কারণ হতে পারে। তবে সঠিক পরিসংখ্যানের জন্য জাতীয় পর্যায়ের গবেষণা প্রয়োজন। সন্দেহ হলে হেমাটোলজি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

তথ্যসূত্র

উপরের তথ্যসূত্রগুলো আন্তর্জাতিক জার্নাল, সরকারি স্বাস্থ্য সংস্থা বা স্বীকৃত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া: